এস এম সবুজ ফকিরঃ নিজস্ব প্রতিনিধি

বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ আছে কিভাবে জোর করে যে কোনোভাবে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়, সে চিন্তায়,বিএনপি আছে কিভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়,সে চিন্তায়,জামায়াত আছে ভালো মন্দ যাকেই সঙ্গী করা যায়, সমস্যা নেই,কোনোমতে জোট করে ক্ষমতায় যেতে পারলেই তাদের তথাকথিত ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের অসম্ভব স্বপ্নের চিন্তায়,চরমোনাইয়ের চিন্তাধারাও কাছাকাছি পর্যায়ের,এদেশ থেকে ইসলাম গেলো,ইসলাম গেলো চিন্তায় ব‍্যাকুল হেফাজতে ইসলাম,লুটেরা আছে লুটের চিন্তায় আর দরিদ্র সাধারণ জনগণ আছে নিজেদের জীবনসংগ্রামের কোনোরকম খেয়েপরে বেঁচে থাকার চিন্তায়।
-এই সুযোগটাই হাতছাড়া করতে চায়নি ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা,তাদের বাংলাদেশে থাকা স্বজাতীদের দিয়ে তারা ৫৩ বছর ধরেই বিভিন্ন কৌশলে বাংলাদেশী নারীদের দিয়ে ভারতের পতিতালয়গুলো ভরাট করছে। সেদিকে বাংলাদেশের কোনো বুদ্ধিজীবী,রাজনীতিবিদ,কবি,সাহিত‍্যিক,সুশীল,মানবাধিকার সংস্থা সাংবাদিকের নজর দেয়ার ইচ্ছেই নেই যেন।এক একটি নারীর আকাশবাতাস ভারী করা চিৎকার ও আর্তনাদের খবর রাখার কেউ নেই।

৬৮ হাজার বাংলাদেশী মুসলিম নারী ভারতীয় পতিতালয়ে,সংখ‍্যাটি বিশ্বাস হয়না?এই বিষয়টি নিয়ে কখনো ভেবেছেন আপনি? ভাবেননি?তাহলে বিশ্বাস করবেন কি করে?সংবাদটি তো বিরোধী শিবির বা ভারতবিদ্বেষী মিডিয়ার নয়,খোদ সরকারদলীয় মিডিয়া,তাহলে অবিশ্বাস করবেন কোন্ সন্দেহে?বরং আমি বিশ্বাস করিনা।কারণ সংখ্যাটা আরো বেশী হবে বলেই আমার ধারণা।কেননা,আমি ভারতের খবরাখবর রাখি সবসময়ই এবং আমি ভারতের অনেক অঙ্গরাজ্যে থেকে আসা লোক।

দৈনিক ইনকিলাব একবার এই আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেই সাহস করে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপে একাধিক পর্বে। তাতে তারা জানিয়েছে বাংলাদেশের হিন্দুদের দেশপ্রেম কতোটা বিদ‍্যমান। তারা দেখিয়েছে বাংলাদেশের শতকরা দু/চারজন ছাড়া কোনো হিন্দুই বাংলাদেশকে তাদের মাতৃভূমি মনে করেনা। বাংলাদেশে থাকা অধিকাংশ অর্থশালী হিন্দুদের ভারতের কলকাতা সহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি গাড়ি প্রতিষ্ঠান আছে।তারা সবসময়ই স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশটা যে কোনো প্রকারেই হোক,ভারতের দখলে যাক। বাংলাদেশের বড় বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানে তাদের চাকরি যতোটা সহজেই নিশ্চিত হয়,কয়মাস পর বা প্রতি বছর ঠিক কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে স্বপরিবারে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ও তাদের সহজেই নিশ্চিত হয়।
সংখ‍্যালঘু কোঠা বলে কথা।
লুটপাট করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশী নারীদেরকে পাচার করার সার্বিক সহযোগিতা করে থাকে ভারতের গোয়েন্দা সহ একাধিক সংস্থা।

– বাংলাদেশের কিশোরী,যুবতী শিক্ষিত,অশিক্ষিত নারীদেরকে পটাতে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে এদেশের হিন্দুরা। কখনো একজন হিন্দু একজন মুসলিম মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে একা ফেলেনা। কমপক্ষে চার/পাঁচজন হিন্দু মিলে টার্গেট করে কোনো মুসলিম মেয়েকে।মেয়েটি মোটেই বুঝতে পারেনা তার প্রেমিকের সংঘবদ্ধ কোনো দল আছে বা কোনো উদ্দেশ্য আছে।
প্রেমিক সাজা হিন্দু যুবকটি মুসলিম প্রেমিকাকে খুব সুন্দর করেই বুঝিয়ে জানায় সে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হবে।
চক্রান্ত বুঝার লোক হলে এই কথাতেই বুঝার কথা যে,এই ছেলে কোনো আলেমের মারফতে ইসলাম গ্রহণ করছেনা বা করতে চাচ্ছেনা,আইনগতভাবে ইসলাম গ্রহণ করছেনা,আমাকে পাওয়ার লোভেই যে সে হিন্দু ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করছে,এই উদ্দেশ্য কতোটা নির্মল স্বচ্ছ ও সৎ উদ্দেশ্য?

-সোশ‍্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশী পটানো হয়ে থাকে। নিজের পরিচয় গোপন রাখা হয়। নিজেকে কোনো মুসলিম নাম দিয়ে মুসলিম এলিট ঘরানার যুবক হিসেবে জাহির করা হয়। বাংলাদেশের মেয়েরা অমনিতেই সহজসরল।মফস্বল বা গাঁওগেরামের মেয়ে হলে তো কথাই নেই, সহজেই জালে আটকা পড়ে। এই উদ্দেশ্যের হিন্দু যুবকেরা অসংখ্য মুসলিম মেয়ের সঙ্গে প্রেমের ফাঁদ বসিয়ে রাখে। প্রথমে মেসেঞ্জারে আলাপ,তারপর অডিও ভিডিও,তারপর দেখা স্বাক্ষাৎ,তারপর প্রেমিক প্রেমিকা হিসেবে ঘুরাফেরা,তারপর আরো গভীরে যাওয়া…।
তারপর?
…একসময় পরিবারের মায়া ছেড়ে পলায়ন এবং পেটে নতুন মেহমানের বসবাস।
শুরু প্রেমিকের হরষ, প্রেমিকার বিষাদ।
যে মেয়েটিকে আগে আশ্বাস দেয়া হয়েছিলো নিজে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার,এখন উল্টো ওই মেয়েটিকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করতে চলে অবিরাম নির্যাতন। কোনো মেয়ে আত্মহত্যা করে,কোনো মেয়ে ইসলাম ধর্মের চেয়ে নিজের বেঁচে থাকার ধর্মকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অনিচ্ছাতেই হিন্দু হতে বাধ্য হয়। কিন্তু যেভাবেই প্রেমিকের মন রক্ষা করে চলুক,প্রধান ঠিকানা হয় ভারতের যে কোনো পতিতালয়ে। বিক্রি করেই প্রেমিক আবার বাংলাদেশে এসে যায় এবং আরেকটি মুসলিম মেয়ে পটানোর আরেকরকম কৌশল চলতে থাকে।

প্রিয় বোনেরা,
আপনি কি কখনো ভাবেন যে দুনিয়াতে সত্যি ধর্ম একটাই এবং আপনি সে ইসলাম ধর্মের সর্বোৎকৃষ্ট মানব?আপনি মারা গেলে অনেকের চোখের জল বইবে,অনেক মানুষ কোরআন পড়বে শিয়রে,আপনাকে যতন করে গোসল দেয়া হবে,আতরগোলাপে আপনাকে আল্লাহর মেহমান হিসেবে সাজানো হবে,অনেকে আপনার জানাজা দেবে,যতনে দাফন করা হবে এবং আপনাকে বেহেশত নশীব করতে সবাই মিলে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করবে।
কোন্ পথে যাচ্ছেন আপনি?
কোটি কোটি সৃষ্টিকর্তা,সাপ ব‍্যাঙ সবকিছুই দেবতা। আপনি মারা গেলে নির্মমভাবে আপনাকে পুড়িয়ে দেয়া হবে,আগুন নিভতে চাইলেই কেরোসিন পেট্রোল দিয়ে আরো অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত করা হবে। হাড় পুড়তে দেরি হলে লাঠি দিয়ে আপনার মৃত দেহের হাড়কে পিটিয়ে সেখানে আবারো পেট্রোল ঢালা হবে।যে পযর্ন্ত আপনি ছাঁই না হচ্ছেন সে পযর্ন্ত পুড়তেই থাকবেন।

-প্রেম করতেই হবে,এমন কোনো কথা আছে নাকি?করতে হলেই প্রেমে কি আপনি মুসলমান খুঁজে পাননা?যাদেরকে দুনিয়ার কোনো ধর্মের লোকই জীবনসঙ্গী করতে চায়না,যাদের মেয়েরা নিজেরাই মুসলমান যুবককে জীবনসঙ্গী করতে পারলে নিজেদেরকে ধন‍্য মনে করে,আপনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ এবং একমাত্র ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়ে কিভাবে তাদের পাতা ফাঁদে সহজেই আটকে যাবেন?

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ